ডিপিএস (DPS) করার আগে আমাদের সবার মনেই একটা প্রশ্ন থাকে— “প্রতি মাসে বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমালে মেয়াদ শেষে আমি আসলে হাতে কত টাকা পাব?”
ব্যাংকের দেওয়া মুনাফার হার (Interest Rate) এবং বিভিন্ন প্রকার ট্যাক্স (উৎস কর/TDS, আবগারি শুল্ক/Excise Duty) কাটার পর আসল হিসাবটা বের করা অনেক সময় কঠিন মনে হতে পারে। আপনার এই হিসাবটি একদম নির্ভুল এবং সহজ করতে BanglaMint নিয়ে এসেছে একটি স্মার্ট DPS Calculator।
চলুন দেখে নিই কীভাবে এই ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করে আপনি আপনার সঞ্চয়ের সঠিক ধারণা পেতে পারেন।
DPS Calculator
কীভাবে হিসাব করবেন?
আমাদের DPS Calculator-এ গিয়ে নিচের তথ্যগুলো পূরণ করুন:
১. জমার পরিমাণ ও সময় (Deposit Details)
- Deposit Amount: আপনি প্রতি কিস্তিতে কত টাকা জমা করতে চান, তা এখানে লিখুন।
- Frequency: আপনি কি টাকাটা মাসে (Monthly) নাকি সপ্তাহে (Weekly) জমা দেবেন, তা নির্বাচন করুন।
- Tenure: কত দিনের জন্য ডিপিএস করছেন তা দিন। আপনি চাইলে এটি Months, Days বা Years-এ হিসাব করতে পারবেন (সর্বোচ্চ ৩০ বছর)।
২. মুনাফা ও ট্যাক্স (Interest & Tax)
- Interest Rate: আপনার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আপনাকে কত শতাংশ বার্ষিক মুনাফা (interest rate per annum) দিচ্ছে তা এখানে দিন।
- Tax (TDS): বাংলাদেশে আপনার TIN (Tax Identification Number) সার্টিফিকেট থাকলে মুনাফার ওপর ১০% ট্যাক্স কাটা হয়। আর TIN না থাকলে কাটা হয় ১৫%। ড্রপডাউন থেকে আপনার জন্য সঠিক ট্যাক্স রেটটি বেছে নিন।
৩. অ্যাডভান্সড অপশন (Advanced Settings)
- Compounding: সাধারণত ডিপিএস-এ ব্যাংকগুলো মাসিক (Monthly) ভিত্তিতে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা হিসাব করে। তবে আপনার ব্যাংক যদি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে (যেমন: Quarterly বা Half-Yearly), আপনি সেটিও পরিবর্তন করতে পারবেন।
- Deposit Timing: আপনি কি মাসের শুরুতে (Beginning of period) নাকি শেষে (End of period) টাকা জমা দেন, তা বেছে নিলে হিসাবটি আরও নিখুঁত হবে।
ফলাফলে যা যা দেখতে পাবেন
সব তথ্য দেওয়ার পর ক্যালকুলেটরটি মুহূর্তের মধ্যে আপনাকে নিচের হিসাবগুলো দেখিয়ে দেবে:
- Total Principal: মেয়াদের ভেতর আপনার নিজের পকেট থেকে মোট কত টাকা জমা হলো।
- Gross Interest: ব্যাংক আপনাকে মোট কত টাকা মুনাফা দিচ্ছে (ট্যাক্স কাটার আগে)।
- Tax (TDS): আপনার মুনাফা থেকে সরকার কত টাকা ট্যাক্স হিসেবে কেটে নেবে।
- Net Income: ট্যাক্স কাটার পর মেয়াদ শেষে আপনি সর্বমোট কত টাকা হাতে পাবেন।
Pro Tip: যেকোনো নতুন ডিপিএস খোলার আগে বিভিন্ন ব্যাংকের ইন্টারেস্ট রেটগুলো আমাদের ক্যালকুলেটরে বসিয়ে তুলনা করে দেখুন। এতে আপনার জন্য সবচেয়ে লাভজনক অপশনটি বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে!
📌 বিশেষ নোট: আবগারি শুল্ক (Excise Duty)
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডিপিএস-এ বছরের যেকোনো সময় ব্যালেন্স একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে তার ওপর বছরে একবার আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কর্তন করা হয়। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে ব্যাংক এই চার্জটি কেটে নেয়।
বর্তমান স্ল্যাব অনুযায়ী আবগারি শুল্কের হার:
| বছরের সর্বোচ্চ ব্যালেন্স | আবগারি শুল্কের পরিমাণ |
| ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ০ টাকা (ফ্রি) |
| ৪,০০,০০১ টাকা থেকে ৫,০০,০০০ টাকা | ১৫০ টাকা |
| ৫,০০,০০১ টাকা থেকে ১০,০০,০০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| ১০,০০,০০১ টাকা থেকে ৫০,০০,০০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা |
| ৫০,০০,০০১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| ১ কোটির ওপরে ব্যালেন্স হলে | [স্ল্যাব অনুযায়ী আরও বেশি] |
উদাহরণস্বরূপ: ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আপনার ডিপিএস অ্যাকাউন্টের মোট জমা যদি কোনো এক পর্যায়ে ৪,০০,০০১ টাকা স্পর্শ করে, তবে ওই ক্যালেন্ডার বছরের জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে।
